ছায়াতল
।। শুভ্র ।।
পাশের বাড়ির শিউলি গাছটার দিকে চোখ পড়তেই একগাদা স্মৃতি হুড়মুড়িয়ে জেঁকে বসলো আমায়।
খুব ভোরে বাবা যখন বারান্দায় পায়চারি করতেন, আর গুনগুনিয়ে রবীন্দ্রসংগীত আওড়াতেন।
আমার বেলা যে যায় সাঝঁবেলাতে.....
আমার ঘুম ছুটে যেত। দক্ষিণা জানালার টুকরো আকাশে দিগন্ত ভাসিয়ে বসতাম।
বাবা'র কাঁধে চেপে ইস্কুলে যাওয়া, রাসপূর্ণিমার মেলায় যাওয়ার বায়না, মায়ের বকুনিতে চুপচাপ খুঁজে নিতাম বাবার ছায়াতল।
প্রত্যেক বিকেলেই আমি বাবার সাথে শিউলিতলায় গিয়ে বসতাম। বাবার আঙুল গলে ছড়িয়ে দিতাম আমার হাত। বিকেল ঝুপ করে ডুব দিত। অন্ধকারের যে নিজেস্ব একছটাক ঔদার্য আছে, তা বাবা না থাকলে জানতাম না।
জানোতো বাবা'র ভারী একটা বদ অভ্যাস ছিল। কিন্তু সুগন্ধী জর্দার আবেশে আমি বাবা'র খুব কাছঘেঁষে বসতাম। সেই অতিপরিচিত গন্ধ আর অদ্ভূত স্নেহঠাঁসা আলিঙ্গনে আমি যে কতো রাত্রির নিশ্চয়তা পেয়েছি!
একবার বাবার খুব অসুখ করেছিল। সেই থেকে বাবা'র পৃথিবী হয়ে ওঠে চেয়ারটা। আমার খুব অপছন্দ ছিল এটা। কিন্তু দেখো আজ আমিই বারবার ফিরে আসি, চেয়ারটায়। প্রত্যেকবার আমি কাঁদি। বাবার গন্ধ পাই যে। মনের মধ্যে কি জানি অন্যরকম শূন্যতা ছেয়ে যায়।
আজ বছর ঘুরে এলো। আজ বাবা'র মৃত্যুবার্ষিকী। আচ্ছা, বাবা কি আমায় দেখছে এখন? তাকে আরেকবার বলতে চাই, ''বাবা, বড্ডো ভালোবাসি তোমায়।"
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন