পোস্টগুলি

তুমিও রাত্রির মতো

ছবি
।। গৌরাঙ্গ সুন্দর পাত্র ।। আমিও প্রেমের ঘায়ে কতবার হয়েছি আহত দেখেছি বেদনার কোলে শুয়ে আছো তুমিও রাত্রির মতো । ফসল কাটার পরেও লেগে থাকে মৃত্তিকায় ফসলের ঘ্রাণ অনেক চাওয়ার মাঝে মানুষ মরে যায় এই দেহ এই মন শুধু না পাওয়ায় সতত অম্লান । তোমাকে না পেলেও এখনো রাতের বুকে শুয়ে দেখি আমি ঘিয়ের নরম দীপ জ্বলছে কোথাও , কেউ যেন কানে কানে বলে যায় আহত করেও উজ্জ্বল ধরায় মানবের প্রেমের সম্বল , প্রেমিক মরে না কভু , মরে যায় তৃষাতুর হৃদয়ের যত কোলাহল । তুমিও রাত্রির মতো তারাগুলি জানে আজো তুমি ছিলে বেদনায় শুয়ে গায়ে ছিল জ্বর , অতি-লৌকিক পৃথিবীর বুকে প্রেম থেকে গেছে শুয়ে আছে আমার এই বুকের উপর ।

কাজল চোখ

ছবি
।। মোরশেদুল আমিন ।। আপন মনে হেঁটে চলছি অগ্রহায়ণের পাকা ধানের আইল ধরে পূবের বেলা অনেকটাই মিঠেকড়া এখন মিঠেকড়া সেই চোখের মত যে ভাষা এখনো আমার কাছে দুর্ভেদ্য গহীন সবুজ। কাজলে কাজলে মায়ায় মায়ায় নবান্নের ঘ্রান বাইলের বেড়ার ফাঁকে একজোড়া চাহনি গামছার আঁচলে মায়ার ফোঁটায় বেঁধে দিয়েছ বেঁধে নিয়েছ আপনমনে আনমনে আমার পাকা ধানের সর্বত্র সেই কাজল চোখ। ঐ চোখের গহীনে যখন সন্ধ্যা নামে ডাহুক পাখিরা ফিরে যায় আপন নিবাসে বাউলের বাঁশির সুর বাঁধে সেই চোখের দিগন্ত রেখায় ফলিত ধানের গোপন শরীরের মত তোমার কাজল চোখের গহীনে হারায় আপন মন।

সুজেটের_কান্না

ছবি
।। অমর বিশ্বাস ।। রাতের আকাশ আঁধার ছিলো ধীরে ধীরে তারারা জ্বলে উঠলো সোনালী চাঁদকে ঘিরে একে একে! ধরনীর রূপ রস যৌবন ছড়িয়ে পড়লো সহস্র প্রানের মাঝে! তাহাদের কলুষিত কাহিনী ধরিত্রীর নিভৃত কোনে, যে অসহনীয় অবলা ব্যথা---- কঁকিয়ে ওঠে ধর্ষিতা সুজেটদের চিৎকারে কে'বা তার হিসাব রাখে! দু'ফোটা অশ্রুকে শুষে নেয় তৃষিত পৃথিবী নিমেষে! পাশবিক অত্যাচারের অঙ্কটা তাই থেকে যায় চিরকালই অসমাধান! না,--------- সুজেটের সজীব অতৃপ্ত আত্মা চঞ্চল অস্থির! নিকৃষ্ট জীবদের ব্যভিচারের যোগ্য বিচারের প্রত্যাশায় আজও উদগ্রীব! ধর্ষিতা রমনীকে বাকরুদ্ধ করতে ব্যর্থ, অমানবিক ঘৃণ্য রাজনীতিরা ব্যর্থ! তোমরা কি বোবা পাথরের ম'তো চুপ থাকবে! অহরহ প্রবাহের ঘর্ষনে ধীরে ধীরে সত্যিই ক্ষয়ে যাবে! প্রতিনিয়ত সহস্র ধর্ষিতা কুসুমেরা সুজেটের তীব্র প্রতিবাদকে বিদ্রোহের দাবানলে অগ্নিসুদ্ধি করবে না!!

ভালবাসার আহ্বান

ছবি
।। আদিত্য আরেফিন ।। হৃদয়ের সমস্ত ভালোবাসা শুধুই তোমার, চিরতরে দিয়েছি মন,দিতে পারি প্রাণ। তোমার তরে লিখেছি কবিতা হাজারে হাজার, এই কন্ঠে গেয়েছি আরও কত শত গান। ভালোবাসার ডাকে দিয়ো সাড়া, এ আমার ভালবাসার আহ্বান। তাকালে একবার তোমার পানে, ভালো লাগেনা ঐ নীল আসমান। তোমার শূণ্যতায় যাই বিরহে ডুবে, চোখের কোনে আসে প্রবল বান। থেকো কাছাকাছি জীবন-মরনে, এ আমার ভালবাসার আহ্বান। শুনলে তোমার মধুর কন্ঠ, বড় বেমানান লাগে পাখির কলতান। শোন একটি অনুনয়, করোনা প্রত্যাক্ষান, ঐ কন্ঠে আমায় শুনাবে প্রেমের গান। এ আমার ভালবাসার আহ্বান। আমায় ছেড়ে, তুমি থাকলে খানিক দূরে, দিবানিশি আকুল মন করে আনছান। ভালবেসে কাছে এসো, ওগো প্রিয়া, করে দিতে সকল দুঃখের অবসান। আমার পাশে থেকো আমৃত্যু ব্যাপিয়া এ আমার  ভালবাসার আহ্বান। তুমি অন্তরে সুখের নির্মল ছায়া, প্রাণহীন নিথর দেহের চাঞ্চল্যকর প্রাণ। তোমায় ছেড়ে যায় না থাকা, প্রতিক্ষণেই মনকে বাঁধে পিছুটান। স্বপ্ন সাজাবে আমায় নিয়ে, এ আমার ভালবাসার আহ্বান।

অবাক লাগে

ছবি
।। হাফিজ রহমান ।। বারবার আক্রান্ত শরীর মন মননে চরম হতাশা নিয়েও যখন হৃদয়ের সবটুকু ভালবাসা ঢেলে তুমি বলো, ভালো থাকো বন্ধু আমার, আমি অবাক হয়ে ভাবি, কতটুকু ভালোবাসা জমে থাকে হৃদয়ে তোমার, কি বিশাল হৃদয় তোমার? চিরকাল কাঙাল আমি ভালবাসার, মিটেছে আমার তৃষ্ণা তোমার সাগরের মত অসীম ভালবাসা পেয়ে। আজ মনে হয় সবই আমি পেয়ে গেছি, যা পাওয়ার কথা তার চেয়েও বেশি! আমি আজ তৃপ্ত তাই, মনের প্রশান্তি কবিতায় গাঁথি হার!

বীরের অঙ্গ যার

ছবি
।। তাহমিনা ছাত্তার ।। চিনেছো আমায়? আমি বীরাঙ্গনা, না লজ্জা পেয়ো না, লজ্জায় মুখ ঢেকো না। এতকাল বোকার মত লুকিয়েছি মুখ আড়াল করেছি, অন্ধকারে কেঁদেছি বুঝতে পারিনি বলে। তাইতো মিলিটারীগুলো যখন করেছে উলঙ্গ আমায় সন্তানের সামনে চেতনালুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত চালিয়েছে নারকীয় উল্লাস করেছে ছিন্ন ভিন্ন, খুবলে খেয়েছে সারা শরীর কামড়ে স্তনের বোঁটা ছিঁড়ে ফেলেছে কোলের শিশুকে আর দুধ দিতে পারিনি ওই স্তন থেকে, তখনও বুঝিনি। মহামানব বঙ্গবন্ধু বুঝেছিলেন, তাই বাঙ্কার -ক্যাম্প থেকে তুলে এনে মুক্তিযোদ্ধার পাশাপাশি আমায় বলেছেন বীরাঙ্গনা, যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার অঙ্গহানী হয়েছে, আমারও। অথচ আমি কত বোকা! লুকিয়েছি অন্ধকারে, কোনঠাসা লোকের বিদ্রুপে ত্রিপুরা গেছি লুকিয়ে, ছেঁড়া শরীরে সেলাই নিতে গর্ভপাত ঘটাতে। আমি বীরাঙ্গনা জেনে মেয়েকে আমার মেরে ফেলেছে তার শশুর বাড়ির লোকেরা। আমি নিজেকে আড়াল করেছি, গোপনে কেঁদেছি। শোন বাংলার লোকেরা, শাব্দিক অর্থেই আজ আমি আমার ক্ষতিপূরন চাই মুক্তিযোদ্ধার সম্মান চাই, স্যালুট চাই বীরের অঙ্গ আমার, লাল সবুজের পতাকায় আর বাংলার মাটিতে আমার রক্তও যে মিশে আছে।

গড়বো প্রেম- সন্ধি

ছবি
।। আদিত্য আরেফিন ।।  ঐ কাজল কালো আঁখির চাহনিতে, কেন মিশে রয় এত নিবিড় মায়া? এক পলকেই বেঁধেছ প্রেমেতে, হৃদয়ে ফেলেছ ভালোবাসার ছায়া। ঐ বাকা ঠোঁটের হাসিতে কেন এত সুখ? যে সুখের আবেশে আমি হই দিশেহারা। এক হাসিতেই ধরলো মনে প্রেমের অসুখ, আরোগ্য হবেনা মোর,তোমার প্রেম ছাড়া। ঐ দীঘল চুলে জমে আছে ঘন কালো মেঘ। ক্ষণেক্ষণেই হৃদয়ে ঝরায় অবিশ্রাম মায়া-বৃষ্টি। সে জলধারায় সিক্ত হৃদয়ের অবুঝ আবেগ, তোমাতেই ফিরে যায় অবাধ্য নয়নের দৃষ্টি। তোমার গায়ের ঘ্রানে কেন এত নেশা? সে নেশায় আমি রোজ হই মাতাল। দুচোখ জুড়ে নামে ঘোর অমানিশা, তোমাতেই বিলীন,খুঁজিনা আকাশ পাতাল। ওগো নন্দিনী, তুমি যে বড়ই প্রেমবতী, তোমার প্রেমের ফাঁদে হয়েছি বন্ধী। যদি না পাই প্রেম তোমার,হবে মোর দূর্গতি, মায়ার বাঁধনে রব বাঁধা,চল গড়ি প্রেম-সন্ধি।