পোস্টগুলি

ফসলি শিশু

ছবি
।। জাবেদ এ ইমন ।। এই যে পৃথিবীর বুকে বেড়ে উঠে চারা ফসলের ফুল, আমি আজন্ম এদের সাথে শিশু হয়ে যাই। আমার দেয়াল যখন রাঙে নীল ভ্রমরের রঙে, একটু সাদা মেঘ জমা করে রাখি বাম পাজরের শীরায়। আপেক্ষিক তত্ত্বের হ্যা, না এর মাঝে যখন দ্বান্দ্বিক পরিভ্রমণ প্রজাপতি তখনো ঘটে মিলন-বিচ্ছেদে বাহন বাশিঁর সুরের সামুদ্রিক ফেনায়িত খেলা। ধরাধাম নিয়মের বাহিরে হাটে না বলেই, জমা করে রাখা সাদা মেঘ অপরূপ বৃষ্টি বিলাস উপাধি পায়। সময়ের চক্রযানে ভর করে মৃত্তিকা চুষে আকাঙ্ক্ষিত বুনো বীজ মহাকালের পৃথিবী প্রতীক্ষায় থাকে ভবিষ্যতের উদ্দাম ফসলের আশায়। আমি বারবার এই ফসলি শিশু, আমিই আবার এই ফসলের পিতা।

তরুণের শপথ

ছবি
।। আদিত্য আরেফিন ।। শোন হে তরুণ, পেয়োনা কভু ভয়। করোনা নত শির আসন্ন বিপদে, আনবে ছিনিয়ে মুক্তি, মনে সাহস কর সঞ্চয়। প্রাণের মায়া করোনা তরুণ, দেহে তোমার বহমান টগবগে তাজা রক্ত। অন্যায়,অনাচার, মিথ্যা পাপাচার, ধ্বংস করবে সকল অশুভ শক্তি, তুমি হবে সত্য-গুরুর ভক্ত। সাজাবে এই বিধ্বস্ত পৃথিবী, সমৃদ্ধ- শৃংঙ্খলায় নিজের মত করে। তুমি হবে উন্নয়নের পথ প্রদর্শক, এই স্বপ্ন-জালে রেখো বন্দী আপনারে। সৈনিক হয়ে লড়বো কল্যাণের তরে, ত্যাগী হয়ে সদাশয় দেখাবো শান্তির পথ। দেশের তরে করবো আত্ন-বিষর্জন, এই হোক তরুণের শপথ।

এপিটাফের কথন

ছবি
।। মোরশেদুল আমিন শাহিন ।। আমার মৃত্যুর পর কবরের উপরে কোন এপিটাফের প্রয়োজন নেই- কষ্টের খরতাপে শুষ্ক লতা গুল্ম দেখে তোমরা বলতে পারবে বেদনায় নীল হতে হতে কষ্ট বন্ধুর অতৃপ্ত হৃদয়; চৌচির মাটির ফাটল দেখে বুঝেনিও আদরহীন একটা জীবন যার অবহেলায় অযত্নে কেটে গেছে জীবনের পুরোটাই , কোন নিশুতি রাতে জ্যোৎস্নার পরিবর্তে ঘুট ঘুটে অন্ধকার দেখলে বুঝবে এ হৃদয় ছিল রমণীর ভালবাসাহীন অথবা যাতনাহীন ভালবাসা । খর চৈত্রের এ মৃত্যুতে শিমুলের তুলো ঝরা দিক থেকে দিগন্তে বিস্তৃত হয়েছে ধূসর আরও। তোমাদের বিরক্তির শেষ লালিমা মুছে সস্থির ঢেঁকুর হবে অত:পর! 

কেউ নেই আজ তাদের পাশে

ছবি
।। ফয়জুস সালেহীন ।। অশান্তির আগুন দাউদাউ করে জ্বলে,শান্তিতে নোবেলধারীর মুল্লুকে। " অহিংসাই ধর্ম" আজ কেবলি মুখের বুলি। হিংসার বিষবাষ্পে ছেয়ে গেছে রাখাইনের উপত্যকা,অলিগলি। জীবহত্যাকে ওরা মহাপাপ বলেই জানে। কিন্তু রোহিঙ্গারা যেন জীব নয়, প্রাণহীন জঞ্জাল! তাইতো নির্দ্ধিধায় নির্বিচারে তাদের নিধনের উৎসবে মেতে উঠে। অধিকারগুলো তাদের, কবেই হয়েছে বুটের তলায় পিষ্ট। শুধুমাত্র বেঁচে থাকার অধিকারটাই ছিলো অবশিষ্ট। কিন্তু তাতেও হানা দেয় জগৎ এর সকল প্রাণীর সুখ কামনাকারীরা। বেঘোর ঘুমে আচ্ছন্ন আজ বিশ্ব বিবেক। তাইতো তাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করেনা রোহিঙ্গাদের আর্ত চিৎকার। রোহিঙ্গাদের রক্তাক্ত দেহগুলো তাদের সহানুভূতিতেও সুড়সুড়ি দিতে ব্যর্থ। মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়ে খড়কুটো হিসাবে ওরা খোঁজে সাহায্যের প্রসারিত হাত। কিন্তু জঞ্জালের পাশে কে দাঁড়াবে? কেউ নেই আজ তাদের পাশে। রোহিঙ্গারা অকাতরে তাই প্রাণ বায়ুটা বিলিয়ে দিয়ে- জঞ্জালমুক্ত করবে মায়ানমারকে। জঞ্জালমুক্ত করবে পৃথিবীকে।।

সংক্ষিপ্ত_বাঁচা

ছবি
।। অমর বিশ্বাস ।।  তোমার দুশো ছ'টা হাড়ের মধ্যে যদি প্রতিদিন--- একটা একটা হাড়কে খুলে নেওয়া হয় তুমি বাঁচবে কি করে! যদি তোমার জীবনে বেঁচে থাকার প্রতিটি উপাদানকে--- একটা একটা করে বেচে দিতে হয় ব'লো তুমি বাঁচবে কি করে! সবকিছুকেই সংক্ষিপ্ত করে বেঁচে আছো জানি, কিন্তু কেমন ক'রে? শ্বাস আছে যদিও দূষিত বাতাসে প্রতিদিন বাঁচার অভ্যাসে-- বেঁচে আছো জানি সংক্ষিপ্ত বাঁচাতে!

আমার মনপোকারা

ছবি
।। মোরশেদুল আমিন শাহিন ।। স্মৃতি গুলো ঘূণেপোকা হয়ে ভিতরটা কি যতনে খেয়ে যায়! ক্ষয়ে যায় আমার জমানো সব সম্বল - ভোরের আলো, ফিঙের ডাক সময়েরা আঁধারে ডুবে যাচ্ছে একটুও টের পাচ্ছে না কেউ এতো যে ভিড় কোলাহল মুখর যাপিত জীবন যতিচিহ্ন নেই কোথাও শুধু ঘূণপোকা বিরামহীন বিনাশ করে যাচ্ছে ইচ্ছে গুলো। ঘূণপোকার ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়েছিলো আদিপাপ থেকে তারপর স্বর্গ থেকে আদম চূড়া, ট্রয়, ফারাও, ব্যবিলন ,বাইজেন্টাইন ঘূণপোকার এক দণ্ড বিশ্রাম নেই। নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে জীবনের পর জীবন সভ্যতার পর সভ্যতা ঘূণপোকারা সীমানা চেনেনা, সভ্যতা জানেনা, মায়াহীন এক বিনাশী মনপোকা।

কষ্টের কতটা বুঝিস

ছবি
।। শামীমা সুমি ।।   কষ্টের কতটা বুঝিস তুই? যতটা দেখিস ততোটুক শুধু কষ্ট! বিভ্রমে আছিস তবে..ওটা ছায়ামাত্র প্রতিবিম্বিত কষ্টের ধোঁয়াটে আলোড়ন।। কতটা পান করেছিস বেদনার জল! এনেছিস কী আঁজলা ভরে পরে চাখবি বলে? নাকি রেখে দিয়েছিস যত্ন করে মৎস্যধানীতে হয়তোবা ছেড়ে দিবি তাতে এক দুটো সুখের মথ।। চিরেচিরে যখন রক্তক্ষরণ হয়! শোণিতধারাটা দেখা যায় না কোনভাবে ই, অনুভব হয় কিছু একটা গলে যাচ্ছে যেন আগ্নেয়লাভার মতো বয়ে যায় চক্ষু বেয়ে।। ইতিহাস হয় আহত হৃদয়ের বোবা কান্না চিতার দহন ভেতরে বাইরে চলে মেকি হাস্য, কষ্টের কান্নাটা কভু বুকে চেপে রাখা যায় শুধু আঁখিদুটি করে যায় বেপরোয়া বিদ্রোহ।। আকস্মাৎ বজ্রপাতে ঝলসেছিস কখনো? প্রিয়জনের আঘাতগুলো বজ্রশলাকা, মথিত হয়েছিস বিরহের চোরাবালিতে? কেবল নিচেই টানে উর্ধ্বপথ স্বপ্নময় লাগে।। কষ্টের আরকে ক্ষীণতম হয় কায়া অস্থি কৃতকাম হয়ে যায় দুঃস্বপ্নের বহতানদী, জীবাত্মা বেরোতে চায় দেহেত খাঁচা ছেড়ে ছিঁড়তে চায় জাগতিক সব মায়াজাল।।